ডেট্রয়েট, ২৯ অক্টোবর : পোশাক প্রস্তুত, হাতে ক্যান্ডির ব্যাগ—দরজায় দরজায় মিষ্টি সংগ্রহে বেরিয়ে পড়ার অপেক্ষায় শিশুরা। ভূত, প্রেতাত্মা, ভয়ংকর মুখোশ আর বিচিত্র সাজে শনিবার, ৩১ অক্টোবর, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে উদযাপিত হবে হ্যালোইন। সপ্তাহান্তে উৎসবটি পড়ায় পরিবার ও শিশুদের মধ্যে বাড়তি আনন্দ-উচ্ছ্বাসের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
হ্যালোইনের অন্যতম আকর্ষণ ‘ট্রিক-অর-ট্রিট’। এ রীতিতে শিশুরা নানা ধরনের পোশাক পরে প্রতিবেশীদের বাড়িতে যায় এবং ক্যান্ডি বা মিষ্টি সংগ্রহ করে। বাড়ির দরজায় কড়া নাড়া, সাজসজ্জা, ভৌতিক পোশাক ও নানা উৎসবের আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করা হয়।
তবে হ্যালোইন কেন প্রতিবছর ৩১ অক্টোবর পালিত হয়, আর কেন উৎসবটি প্রতি বছর সপ্তাহের ভিন্ন ভিন্ন দিনে পড়ে—তা নিয়েও অনেকের কৌতূহল রয়েছে।
এ বছর হ্যালোইন কোন দিন?
এ বছর হ্যালোইন ৩১ অক্টোবর, শনিবার। সপ্তাহান্তে উৎসবটি পড়ায় শিশুদের নিয়ে বাইরে বের হওয়া, প্রতিবেশীদের সঙ্গে উৎসবে অংশ নেওয়া এবং বিভিন্ন বিনোদনমূলক আয়োজন উপভোগ করার সুযোগ পাবেন অনেক পরিবার।
তবে স্থানীয় নিয়ম, নিরাপত্তা ও দীর্ঘদিনের রীতির কারণে কোনো কোনো এলাকায় ‘ট্রিক-অর-ট্রিট’-এর সময়সূচি ভিন্ন হতে পারে। তাই শিশুদের নিয়ে বের হওয়ার আগে নিজ এলাকার নির্ধারিত সময়সূচি জেনে নেওয়া ভালো।
হ্যালোইন কি সব সময় ৩১ অক্টোবর পালিত হয়?
হ্যাঁ। হ্যালোইন প্রতিবছর ৩১ অক্টোবরই পালিত হয়। এটি নির্দিষ্ট তারিখভিত্তিক একটি উৎসব। ফলে সপ্তাহের দিন পরিবর্তিত হলেও উৎসবের তারিখ অপরিবর্তিত থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য ছুটির দিনের ক্ষেত্রে ভিন্ন নিয়ম দেখা যায়। যেমন, থ্যাঙ্কসগিভিং পালিত হয় নভেম্বরের চতুর্থ বৃহস্পতিবার এবং মেমোরিয়াল ডে পালিত হয় মে মাসের শেষ সোমবার। এ কারণে এসব ছুটির তারিখ ক্যালেন্ডারে পরিবর্তিত হলেও হ্যালোইন থাকে ৩১ অক্টোবর।
ভবিষ্যতে হ্যালোইন সপ্তাহের কোন কোন দিনে পড়বে?
আগামী বছরগুলোতে হ্যালোইন সপ্তাহের বিভিন্ন দিনে পড়বে। ২০২৭ সালে ৩১ অক্টোবর হবে রোববার, ২০২৮ সালে মঙ্গলবার, ২০২৯ সালে বুধবার এবং ২০৩০ সালে বৃহস্পতিবার। ২০৩৭ সালের আগে হ্যালোইন আর শনিবার পড়বে না।
হ্যালোইন কেন ৩১ অক্টোবর পালিত হয়?
‘হিস্ট্রি চ্যানেল’-এর তথ্য অনুযায়ী, হ্যালোইনের ইতিহাস দুই হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো। প্রাচীন কেল্টিক উৎসব ‘সামহেইন’ (Samhain) থেকে এর উৎপত্তি। ফসল কাটার মৌসুমের সমাপ্তি উপলক্ষে এ উৎসব পালন করা হতো। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ঐতিহ্যের সঙ্গে খ্রিস্টীয় বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের সংমিশ্রণ ঘটে। এর মধ্যে ১ নভেম্বর পালিত ‘অল সেইন্টস ডে’ (All Saints’ Day) উল্লেখযোগ্য।
অল সেইন্টস ডে-এর আগের সন্ধ্যা ‘অল হ্যালোস ইভ’ (All Hallows’ Eve) নামে পরিচিতি লাভ করে। পরবর্তী সময়ে নামটি সংক্ষিপ্ত হয়ে ‘হ্যালোইন’ (Halloween) হিসেবে প্রচলিত হয়।
আইরিশ ও স্কটিশ অভিবাসীরা হ্যালোইনের বিভিন্ন ঐতিহ্য উত্তর আমেরিকায় নিয়ে আসেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উৎসবটি নতুন রূপ পায়। বর্তমানে হ্যালোইনে মানুষ বিচিত্র ও ভৌতিক পোশাক পরে, কুমড়ো খোদাই করে ‘জ্যাক-ও-ল্যান্টার্ন’ (Jack-o’-lantern) তৈরি করে এবং শিশুরা ‘ট্রিক-অর-ট্রিট’ (Trick-or-treat) প্রথায় ঘরে ঘরে গিয়ে ক্যান্ডি ও মিষ্টি সংগ্রহ করে আনন্দ উদযাপন করে।
Source : http://detroitnews.com
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

সুপ্রভাত মিশিগান ডেস্ক :